Tuesday, June 19, 2018

হ্যাপী ফাদার্স ডে উপলক্ষ্যে

জ্ঞান হওয়া ইস্তক আমার সাথে আমার বাবার ভালো সম্পর্ক বাবার শেষ দিন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। অনেকেই বলেছেন বাবা নাকি মনে মনে আমায় খুব ভালোবাসত, আমি টের পাইনি। বাবা আমায় সাধারণত শুয়োরের বাচ্চা আর কখনও অঙ্ক টংক ভালো নামিয়ে দিলে ছাগল বলে ডাকত। আমার নিজের সম্মন্ধে সম্যক জ্ঞান ছিল বলে আমি এসব গালাগালি গায়ে মাখিনি কোনোদিন। নাহ, বাবা মোটেই আদর করে বলত না একটা বিশেষ টোন ছিল, যারা শুনেছে তারা জানে। 
যাক, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার মধ্যে একটা ফারাক আছে, ভালো না বেসেও শ্রদ্ধা করা যায়। ভালোবাসব কি করে বলুন, 6বছর ক্লাস 5 থেকে 10 অবধি দোল খেলতে দেয়নি। লোকে হাতে রঙ লাগিয়ে পরীক্ষা দিতে আসত, আর ভাবত আমি হেবী পড়ে এসেছি। লাভ যে হয়নি সে তো বুঝতেই পারছেন। বন্ধুরা শীতের শনি রোববারে দুপুরে ক্রিকেট খেলছে, ডাকতে এসেছে...বাবা প্রশ্ন বিচিত্রা ধরে বা কে সি নাগ কে ডেকে এনে বসিয়ে দিল। সেই থেকে আমি ঢ্যাঁটা। এসব কথা বলার ও নয় আবার ভোলারও নয়।
তবে বাবা চলে যাবার পর ধীরে ধীরে কি করে যেন বাবার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল, তাতে ভালবাসা নেই বললেই চলে, শ্রদ্ধা আছে। বাবার সাথে অনেক কথা বলার ছিল বলা হয়নি, তবে দীর্ঘ 4 বছর আমি একটা প্রসেসে বাবার স্বপ্ন দেখছি আর একটু একটু করে মারামারি থেকে বন্ধুত্ব হয়েছে। 
বাবা মারা যাওয়ার পর আমি রেলের চাকরি টা পেতাম। পরীক্ষা দিতে গেছিলাম। লিফটের লাইনে দাঁড়িয়ে শুনলাম, "শুয়োরের বাচ্চা, এই ভাবে আমার পয়সায় তো সারা জীবন খাবি"। আমি হাইয়েস্ট পেয়েছিলাম চাকরি নেওয়ার ইচ্ছা হয়নি, নিয়ওনি।
সে অনেক গল্প আছে, কোনোদিন সিনেমা বানালে কাজে আসবে। তবে আমি বাবাকে বেমক্কা বোকা বানাতাম। 
তখন ক্লাস নাইন, বাবা আমাকে ঐচ্ছিক অঙ্ক নেওয়ালেন। এরমধ্যে একদিন শনিবার রাতে জি সিনেমায় কামসূত্র দিয়েছে। আমি স্কুল থেকে জানা একটা ভুল অঙ্ক বাবাকে দিয়ে বললাম, অঙ্কটা মিলছেনা। বাবা অঙ্কে তলিয়ে গেল, আমি রিমোট নিয়ে মিউট করে, জি সিনেমা। তারপর দরজার পিছন দিয়ে দেখতে লাগলাম। মা দেখে না ফেললে বাবা বুঝতেও পারত না। 
আর একটা গল্প বলে শেষ করব। তখন ইলেভেন, বাবার অভিযোগ আমি পড়াশুনা করছিনা। অভিযোগ সইত্য। হেডু ডাকলেন একদিন, আমি বীরদর্পে হেডুর ঘরে গেলাম। আমাদের হেড স্যারের একটু দাঁত কিড়মিড় করার ব্যাপার ছিল,মানে এমনিই করতেন। বার তিনেক করে, ইঙ্গিতে একটা দিক দেখিয়ে বললেন, "ওনাকে চেনো?"
বাবার চেহারা তখন ভীষণ খারাপের দিকে আর সত্যিই আমি দেখতে পাইনি, মিস করে গেছিলাম। আমি একটু কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঠাহর করে নিতে গেছিলাম। হেড স্যার রেগে বললেন,"নিজের বাবাকে চিনতে পারছনা?" ব্যাক গ্রাউন্ডে চলছে, "ও তো শুয়োরের বাচ্চা, চিনবে কি করে"। #fyi হেড স্যার আমার বাবারও স্যার ছিলেন।
তবে বাবা যেদিন চলে গেল, আমি বড়মামা কে দেখেই ওরকম হাউ হাউ করে কেন কেঁদেছিলাম আজও ভাবি।

No comments:

Post a Comment

কুলের আচার ও পুরাতনী চিঠি

 মনে করুন, এভাবেই সময় চলছে... তাতে তো আর জীবন কাকু থেমে থাকবে না। এগিয়েই যাবে। মনে করুন এরকম ভাবেই ২০২৫ এর বসন্ত এসে গেছে, এভাবেই ঘরে বসে কা...