Saturday, April 28, 2018

অকারণ হয়তো বা

আমার কোনো দেশের বাড়ি নেই, ছিলোনা কোনোকালে।
আমার কোনো দেশভাগের স্মৃতি নেই,
আমার ছেলেবেলার সাথে কোনো কাঁটাতারের সম্পর্ক নেই।
আমার কোনো বুড়ি পিসি ছিলনা,
পোষা খরগোশ, কুলের কাটায় ছড়ে যাওয়ার দাগ এসব কিচ্ছু কোনোদিন ছিলনা নেই...

এরকম করে আমার একটা কবিতার প্রথম দিকের কয়েকটা লাইন ছিল। সে কবিতাটা কোনোদিন কোথাও পোস্ট করিনি সম্ভবত, আমার অনেক এলোমেলো খাতা ডাইরির মধ্যে কোথাও আছে।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটা ইন্টারভিউতে পড়েছিলাম, উনি সত্যজিত রায়কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'আপনি লিখলেন বা ছবি আঁকলেন না কেন?' সত্যজিতের উত্তর ছিল খানিকটা আগুন্তুক ছবির ডায়লগের মত, 'আমি চাইলেও ওরকম বাইসন একটা পারবোনা, আর রবীন্দ্রনাথ যা লিখে গেছেন, তারপর আর কি লিখব!'-যতটা মনে ছিল সেরকম লিখলাম, মূল বক্তব্যটা এরকমই ছিল।
আমার উপরের কবিতাটা আমি তারাপদ রায়ের একটা কবিতা পড়ে উত্তেজিত হয়ে লিখেছিলাম, আমি সুনীলের একটা কবিতা পরে উত্তেজিত হয়ে বোধহয় আমার প্রথম কবিতাটা লিখেছিলাম। আমি যখন যা লিখেছি এভাবেই লিখেছি বেশিরভাগ। আমি শুনে বা পড়ে যতটা অনুপ্রাণিত হই, ততটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নেই।
আজ অফিসে সেকম কোনো কাজ নেই, বনের মোষও অফিস চত্ত্বরে আসেনা, তাই ভাবলাম একটু পড়াশুনা করি অনেকদিন কিছু পড়িনা, তা আর কিছু না থাকুন pdf তো প্রচুর। আমি সুনীলের দুটো উপন্যাস অনেক আগে পড়েছিলাম, 'সন্যাসিনী ও এক কিশোর' আর দ্বিতীয়টার নাম মনে গল্পের নায়কের নাম ছিল রূহ। ঐ বইদুটো কোথাও পাইনা। তা খুঁজতে খুঁজতে একটা ইন্টারভিউ পেলাম, তাতে হেডিং হচ্ছে "লিখতে হয়েছে স্রেফ বেঁচে থাকার জন্য"। কি করবো এই কথা গুলো আমায় খুব পীড়ন করে, আমি তো পড়েই উদ্ধার করতে পারলাম না।
এরপর আমি এটা সেটা দেখতে দেখতে ঋতুপর্ণ ঘোষের 'ফার্স্ট পার্সন' পেলাম, লোকটাকে নিয়ে আমি আমি বাঙালীর মত উত্তেজিত নই, ২০১৩র পর আর 'সানগ্লাস' বেরোয়নি বলে ওঁর কোনো সিনেমায় আমি রিভিস্ট করিনি, ইচ্ছা করেনি। কিন্তু একটা লেখা সেখানে না বছরের একটা বাচ্চা ছেলে কি করে লোকনাথ ব্রহ্মচারী নামটার সাথে পরিচিত হল তার একটা গপ্পো আছে, কি বলবো রাগও হয় কাউকে বোঝাতে পারিনা।

Monday, April 23, 2018

ডাইরির একটা পাতার মত


আমি কয়েকটা বাংলা সিরিয়ালে স্ক্রিপ্ট ডায়লগ এসব লিখেছি, একটা সুপারহিট বাংলা সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছি, কাজ কিছুই করিনি শুধু দেখেছি আর বোঝার চেষ্টা করেছি। এবার আমি তেমন কিচ্ছু করে উঠতে পারিনি, অনেকে আমার গল্প টল্প পড়ে উত্তেজিত হলেও সে গল্প বালিশের তলাতেই র‍য়ে গেছে, তবু কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলে ফেলি আমি স্ক্রিপ্ট লিখি। কেউ কেউ বেশ ফেনিয়ে গল্প জুড়ে দেয়, এই বিষয়টা নিয়ে বাঙালীর সবার একটা না একটা মতামত আছেই। আবার কেউ কেউ একটু বেশি পোঁয়া পাকা জিজ্ঞাসা করে, কোথা থেকে শিখলে? উত্তর অনেক রকম হতে পারে, দিতেও ইচ্ছা করে, তবু নিজের আয়নায় অবয়বটা পাল্টায়নি বলে যা ঘটেছে তার থেকে আংশিক বলি।
আমি তখন ল’কলেজে পড়ি থার্ড ইয়ার, কলেজের ম্যাগাজিনের জন্য লিখতে বলেছিলো। সেইসময় কালবেলা নামে একটা সিনেমা বেরিয়েছিলো গৌতম ঘোষের, ঐ সিনেমাটা দেখে ছাত্র আন্দোলন হেন তেন এইসব নিয়ে লিখতে বলেছিলো, আমার লেখাটা আমার মতে তার বিপরীত মুখী হয়ে গেছিল, কারণ সেই সময় থেকেই বুঝতে পারি আমি বুর্জোয়া। তবু কি করে যেন লেখাটা হিট করে গেলো। গড়িয়াহাটের প্যান্টালুন্সের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা চা সিগারেট খেতে খেতে আড্ডা মারতাম, একদিন জোজো এসে বলল, ‘সায়কদা তুমি স্ক্রিপ্ট লিখবে?’। ঐ সময় সময় সকালে ঋত্বিক, বিকেলে ফেলিনি, রাতে গোদার্ড গিলে কিচ্ছু না বুঝে শুতে যাই, ঘুমের মধ্যে মনমোহন দেশাই টুকি মারে, আমি একলাফে বললাম হ্যাঁ করবো আমাকে অ্যাসিস্ট করতে দিতে হবে। এই ভাবে আমি লেখা শুরু করি। আমি গ্রাজুয়েট হইনি তখনও, কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা সেরকম ছিলনা, কেউ কোনোদিন ওসবে উৎসাহ দেয়নি, আমি নিজে পাড়ায় দুবার নাটক করে মজা পেয়ে গ্রুপ থিয়েটার জয়েন করি, আর বাড়িতে অমিতাভ বচ্চনের ডায়লগ মারতুম আয়নার সামনে। আমার যখন স্ক্রিপ্ট লেখার টেস্ট হয়েছিল তখন যাদবপুরের সব ফিলিম স্টাডিজ, তুলনামূলক সাহিত্যের মেয়েরা ছিলো, তবে গিয়েই বুঝেছিলাম এরা পারবেনা, পারেওনি একজন ছাড়া।
কেন লিখছি এসব আসছি সেকথায়, প্রথমে ভেছিলাম অভিনয় করবো, পারতুমও, একদিন আমার কলেজের এক সিনয়রের কথায় অভিনয়ের ইচ্ছাটা তুলে রাখলাম, সেই সময়ই মানিক বাবু দেখা দিলেন। তারপর থেকে এই চলছে।
কিছুই করতে পারিনি এখনও সেই দুঃখেই বোধহয় লিখছি, আর আজকে আমার জন্মদিন। এই দিনটা আমার লাস্ট কবে ভালো কেটেছে ঠিক করে বলতে পারবোনা, দুহাজার বারোতে বোধহয় বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে খেতে গিয়েছিলাম তখন একটু আনন্দ হয়েছিল।
আরো অনেকগুলো ঘটনা মনে পড়ছে কিন্তু সেগুলো লিখে স্মৃতিচারণ ছাড়া আর কিছু হবে কিনা কে জানে, স্মৃতিচারণ করতে আমার ভালো লাগেনা। আমি খেরোর খাতা কিনেছিলাম, মানিক বাবু ওতে লিখতেন শুনে, কিন্তু লিখেওছহিলাম একটা স্ক্রিপ্ট কিন্তু হয়নি। কারণ টারণ গুলো অনেক্তা ব্যক্তিগত অনেকটা হয়ত নিজের অক্ষমতা।
এইখানে এসে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। আমি আগে ডাইরি লিখতাম কিন্তু ডাইরির লেখা গুলো পরে পড়লে দুঃখ ছাড়া আর কিছু হতোনা এটাও সেরকম হয়ে যাচ্ছে। এটাও সেই অসম্পূর্ন ডাইরির একটা পাতার মত হয়ে গেল...  

Tuesday, April 17, 2018

দুঃখু পার্ট 2

কাল কেন দুঃখু করেছিলাম জানেন? লিখতে পারছিনা বলে। আমাকে একজন বলেছিলেন, 'যে লিখবে তাকে এমন হতে হবে যে শুধু গাঁ.. ইয়ে পেছনটা ঠেকাবে আর তরতরিয়ে লিখে চলবে'। 
কথাটা হয়ত উচিৎ কিন্তুক তার যদি তখন বাহ্য আসে? কিম্বা ধরুন লেখা আর পেটে ছুঁচোয় ডন একসাথে মারতে লাগলো তখন? প্রথমটা আমার বহুবার হয়েছে, কমোডে বসলুম আর ব্যাস বাবু এসে দাঁড়ালেন। উনি আবার দাঁড়াতে পারেন না, ঐ ভাবেই আর্কিমিডিসের মত ছুটলাম।
লেখা তো আমার বাপের চাকর নয় যে ডাক দিলেই এসে হাজির হবে। তেমন হলে কি আর কবি বজরায় করে ঘুরে বেড়াতেন? শান্তি নিকেতনে জমি কিনতেন? মানে হল ঠেকালেই হলনা, কোথায় ঠেকাচ্ছি সেটাও বড় কথা।
এখনকার সমস্যাটা অন্য দাদারা, সত্যি বলছি মনে কিছু করবেন না ট্রেনে উঠে বসার জায়গা যদি পাই, না পেলেও দেখি চার রকম গল্পরা তাদের ছানা পোনা, ভাই বোন, বেয়াই বোনাই, জগাই মাধাই, সবাইকে নিয়ে রোজ দাঁত কেলিয়ে নালাসোপাড়া টু দাদর, আর দাদর টু নালাসোপাড়া করছে। আমি শালা ক্যাপসিকামের দর ভেবে আধ পাগলা আর লেখারা এসে কনুইতে সুড়সুড়ি দিচ্ছে কিরকম লাগে ভাবুন।
সবে জানেন, গ্রহরাজ একটু ঠিক হলো, রাহু তো আমার ভালোই, কেতুর সমস্যাটা আমি সামলে নি, ভাবলাম একটু বোধহয় খুড়ো মুখ নামিয়ে দেখলেন। ওমা এমন হল যে অমন স্বাত্তিক বেস্পতি বেঁকে বসলেন। জীবনে ভাল কি কিছু হবেনা!
ট্রেন থেকে নেমে গেলে আবার তেনারা উধাও, কি জ্বালা।
আরো কি কি যেন লিখবো ভেবেছিলাম বাড়ি এসে গেলাম।
*চার রকম গল্পটা পরে লিখব খন।
** একটা লিস্টি করে রেখেছি সেটাও লিখতে হবে।

Monday, April 16, 2018

লেগে থাকা দুঃখুরা ও গঙ্গারাম

গঙ্গারাম কে, কেন, কি বেত্তান্ত এসব নিয়ে বলতে বসলে আর আমার চেনা কিছু মানুষকে দু ছিলিম গাঁজা টানিয়ে দিতে পারলে তারা বই টই লিখে ফেলতে পারবে, আমার অতটা এলেম নেই। 
তবু বলতেই হয়, গঙ্গারাম আমার দুঃখ হলেই আসে। তেমন তেমন দুঃখ হতে হবে... কানের পিছনটা নীল হয়ে যেতে হবে, হাতের তালুটা শুকিয়ে যেতে হবে। তবে দুঃখুর সময় কি হয় আমি নিজেও ঠিক মেপে দেখিনি আর কানের পিছনটাতো দেখাই যায়না।
এবার দুঃখের কথা বলি, দুঃখ অনেক প্রকার আমার তিন রকম আছে, বড় দুঃখু, মেজো দুঃখু আর লেগে থাকা দুঃখু। লেগে থাকা দুঃখুরা আমার সাথে ছোট থেকে আছে। সেই যখন আমি হনুমান সাজতাম আর কাপড়ের ল্যাজটা নেতিয়ে থাকত, তারপর ভাবতাম একদিন ঠিক সকাল বেলা উঠে আমায় আর চশমা পড়তে হবে না, নিশ্চয়ই একবার অঙ্ক পরীক্ষার আগের দিন স্বপ্নে অঙ্কগুলো পেয়ে যাবো... এসব হয়নি কখনও, আর দুঃখ গুলোও পাল্টাতে পাল্টাতে গেছে।
এখনকার দুঃখুগুলো নেহাত মন্দ না, কোনো সময়ই ট্রেন ফাঁকা পাওয়া যায়না, হঠাৎ একদিন দেবগুরু জানালেন তিনি বক্রী হয়েছেন, পায়খানায় বসলে আজকাল দুপুরে কি খাবো চিন্তা করি এসব কি কম দুঃখের! তারপর বছর খানেকের বেশিই হবে বোধহয় স্বপ্ন দেখিনা, দেখলেও মনে রাখতে পারিনা।
লেখাটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বোধহয়, দুঃখু জিনিসটাই এরকম লেবড়ে দেয়।
এটা আসলে একপ্রকার স্বীকারোক্তি, গঙ্গারাম আসলে আমার পুরোনো কথা মনে পড়ে যায়। গঙ্গারাম চরম দুঃখের সময় এসে কিছুই বলেন না, ঠায় তাকিয়ে থাকে আমিও তাকিয়ে থাকি তারপর আই কন্ট্যাক্ট টা কেটে গেলেই চলে যায়। তবে তাতে আমার কিছু উপকারই হয়।
গঙ্গারামকে আমি ধার করেছিলাম, তা প্রায় একপ্রকার আশীর্বাদও বলা যায়। সে গল্পটা হল, তারাপদ রায় আমার গুরু (মনে মনে), ওঁর একটা চরিত্র ছিল গঙ্গারাম, আমি তাকে নিজের মত করে নিলাম।
গঙ্গারাম যে এসেছিলেন তার কারণ হল, গঙ্গারামের সাথে কথা হওয়ার আগে একটা ভাব তৈরি হওয়া দরকার। তেমন তেমন ভাব তৈরী না হলে কথা জমবে কি করে?
দেখা যাক কি বলে...
পু: একটা গপ্পো প্রতিযোগিতায় গপ্পো দেবো, একটা গপ্পের আউটলাইন লিখে দিতে হবে, গপ্পো গুলো রোজ এসে উকি মেরে যাচ্ছে, আর আমি আজে-বাজে-কাজে মন দিয়ে আছি পয়সা পাচ্ছি বলে, এ কি কম দুঃখু! উনি না এসে যাবেন কোথায়??
পুঃ পুঃ ট্রেন ফাঁকা থাকলে কিরকম লেখা যায় দেখেছেন...খ্যাকস.

Sunday, April 15, 2018

ঐ উলম্ব ভাবে লেখা কিছু শব্দ...কবিতা নয়

কি করব, আমি আর কিছু পারিনা।
যতটা তাকালে পরে দিগন্ত দেখা যায় 
ততটা আমি তাকাতে পারছিনা।
যতটা হাত বাড়ালে আঙুলের ফাঁকে হাওয়ারা হিলি বিলি কাটে 
ছাদের ব্যবধান তার থেকে অনেক কম।
দু চারটে গল্প হত্যে দিয়ে পড়ে আছে, ঘরের বাইরে
রোজ আসতে যেতে হোঁচট লাগে, বলি- 'র' বাপু আর কটা দিন থাক তারপর ঘরে তুলব'।
আগেও বলেছি শব্দরা আমাকে মাঝে মাঝে এমন ভাবে ধরে,
আমি এড়াতেও পারেন, আমি তাড়াতেও পারিনা।
মাঝে মাঝে, না আজই মনে হল,
যদি একবার ফিরে আসব, কথা দিয়ে হারিয়ে যেতে পারতাম বড্ড ভালো হত

Monday, February 12, 2018

এই তো জীবন কালিদা...

পেত্থম ভুল করেছিল শকুন্তলা। দেখছিস নাম দুষ্মন্ত, এমনিই একটা দুষ্টু দুষ্টু ভাব তুই মা... ইয়ে মানে পাকামি মারতে গেলি কেন? তারপর ভুল করল এই আমাদের কালিদা, তা বাপু বউরা অমন একটু আধটু অপমান করেই থাকে। তোকে কে বলেছিল ধাঁ করে 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' লিখতে? আর লিখলি লিখলি অমন করে কেউ দুষ্মন্তর সামনে শকুন্তলাকে ইন্ট্রো দেওয়ায়? নামেই বলে দিচ্ছে রাজা গজা যাই হোক দুশমন তো।
তখন এতো সেন্সর, কার্নি সেনা, পহলাজ নিহালনি ছিলনা বলে ভরপুর সেক্স সিন্ ঢেলে দিয়ে কালিদা পার পেয়ে গেল।কিন্তু কালিদা পরে বুঝেছিলেন যে, সে রাতে বউ এর কথায় চেগে যাওয়া ঠিক হয়নি।
সেই ছোটকালের একটা জোক ছিল, এক ছেলে তার বাপের কাছে সাইকেল চাইল, বাপ্ জিজ্ঞাসা করল ওমুকটা তমুক জায়গায় ঠেকে? ছেলে, বাইক চাইল বাপের সেই এক প্রশ্ন... শেষ টুকু আশাকরি লোকে জানে, আমি আসল কথায় আসি। 
সেই থেকে ইস্তক বাঙালির কাছে যৌনতা আর বিবাহ সমার্থক হইল।🤔🤔🤔💭

ভ্যালেন্টাইন ডে'র প্রাক্কালে বা পুরোনো কিছু কথা...

সে হিসাব করে বলতে গেলে বহুকাল আগের কথা বা 2009 সালের ও হতে পারে। আমি একাই ছিলাম, তখনও আমার শনির সাড়ে সাতি লাগেনি। রোম্যান্টিক জায়গা আমার কোনকালেই ভাল লাগেনা। কোন জায়গায় গেলে রোম্যান্স আসবে ওসব 'বুর্জোয়া' ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। আমি মাঠে, ঘাটে, বনে-বাদারে, রোম্যান্টিক ফিল্ড ক্রিয়েট করে নিতে পারি, এই আমার চিরকেলে বিশ্বাস। আরেকটু লম্বা হলে, একটু রোগা হলে... যাক পুরুষ মানুষ আফসোস করেনা।
তো আমি একটা পার্কের মধ্যে দিয়ে হাঁটছি, কোন অনির্দিষ্ট কারণই হবে, আর আদারে বাদারে অপকম্ম আর ন্যাকামি দেখে দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে। দুপুরের সময় ঐ সময় যে অত আদিখ্যেতা হতে পারে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতাম না। যাক একটা ফাঁকা বেঞ্চ দেখে বসলাম। মুখ টুক মুছে পাশে তাকিয়ে দেখি, এক কৃশকায়, দীর্ঘদেহী, আবক্ষলম্বিত শ্মশ্রুগুম্ফ সম্বলিত এক বুড়ো বসে আছেন। এক সেকেন্ড আগেও দেখিনি। তবু ভাল! বুড়োর বয়েস দেখে আন্দাজ করার উপায় নেই, একটা বয়সের পর বয়সের বাড়টা আর বোঝা যায়না, চেহারা ঝিরকুট্টি মেরে যায়, এর অনেকটা সেরকম। দেখলাম বুড়ো একা একা খিটখিট করে যাচ্ছে। বৃদ্ধাশ্রম কেস ভেবে কিছু আর জিজ্ঞাসা করলাম না, আরো একটু পর দেখি বেশ জোরেই বলে উঠল, "না নাহ সব উচ্ছন্নে গেছে!" আমি ভাবলাম এই বয়সে বুড়োদের একটু চরিত্র স্খলন হয়, পুরনো স্মৃতি একটু ঝালিয়ে নিতে এসে উলটো কেস হয়ে গেছে। একবার ভাবলাম একটু ফাজলামি করি, তারপর চেহারার গঠনটা দেখে ঠিক ইচ্ছা করলনা, দুধ ঘি, হাওয়া বাতাস, সব অর্জিনাল শরীরে সেঁধিয়েছে কিনা, ট্যাকচার টা ঠিক দাদু দাদু টাইপ না।
চলেই যাচ্ছিলাম, বুড়ো খ্যাক করে পিছু ডাকলেন, "সময় হয়ে গেছে বুঝি?"।
- কিসের সময়?
- এই চারদিকে যা হচ্ছে, তুমিও যোগফল বাড়াবে।
- ইয়ে না, আমার আবার ভিড়ের মাঝে...
- তা বাপু তোমাদের কি নিজস্ব বলতে কিচ্ছুটি থাকতে নেই?
- মানেটা যদি একটু হাল্কা করে...
- মানে আবার কি? বিদেশীদের ঝোলানো গাজর দেখলেই এই হ্যাংলাপনা ক্যানো বাপু? আমাদের কি প্রেম টেমের কোন ইতিহাস নেই নাকি?
আমি আর কি বলব? অনেক ভেবেও কৃষ্ণ ছাড়া আর কাউকে পেলাম না, কিন্তু ওকে তো আর ম্যাঙ্গো পিপলদের মধ্যে ধরা যাবেনা, তাহলে আবার ফেট্টি বেঁধে লোকজন নেমে পড়তে পারে।
শুনে বললেন, "আরে কৃষ্ণর কথা রাখো ও ছাড়া আর কেউ প্রেম করেনি নাকি? অবশ্য যা নীচে নেমেছ তাতে তো পুরোনো খবর কিছু রাখো বলে মনে হচ্ছেনা।
কথাটা সিঙ্গুলার না প্লুলারে মিন করলেন আর জিগালুম না।
- কেন আমাদের বিশু প্রেম করেনি? কি প্রেম করেছে...!
আমি ভাবতে লাগলাম বিশু আবার প্রেম করল কবে, ও তো বাসে উঠে ঝাড়ি মারত।
- ওহঃ সে কি প্রেম, লোম, দাড়ি গোঁফ পর্যন্ত খাড়া হয়ে যেত। তাও আবার কে না স্বর্গবেশ্যা মেনকা।..
কার কথা বলতে চাইছেন লোকটা? ধন্ধ হতে জিজ্ঞাসা করলাম, "ইয়ে, বিশুর পদবীটা...?"
- তখন ওসব ঠুকনো ব্যাপার ছিলনা আমাদের কালে, বিশ্বামিত্রের নাম শোননি?
আমার তখন বিচমকা লেগে গেছিল, বিষম আর চমকানি একসাথে।
- বিশ্বামিত্রের প্রেম কি একটা নিদর্শন হতে পারেনা?
একটু সামলে নিয়ে বললাম, "হতে পারে তো বটেই, তবে কিনা ওঁর হুশ ফিরে আসার পর মেনকাকে দূর করে দিয়েছিলেন শুনেছিলুম".
-ওসব ঐ দিপুটা লিখেছে তো? পাকা ছেলে!
কাকে বললেন কে জানে!
- না না বইতে ওরকম লিখতে হয়, মেনকা তো স্বর্গবেশ্যা ছিল, ওদের মেয়াদ থাকে, তাও বিশুর শাপের ভয়ে কিছুদিন ছিল। চলে যেতে বিশুর সেকি দুঃখ! তা সেটা যদি নাও হয় যযাতি প্রেম করেছিল।
- আজ্ঞে (বেরিয়েই গেল), বিয়ে হয়ে গেলে প্রেমের যবনিকা পড়ে যায়।
- বেশ তবে বৃহস্পতির ছেলে কচ আর শুক্রের মেয়ে দেবযানী র প্রেমটা?
- কচ যে আউটরাইট রিজেক্ট করে দিল?
অঃ, বলে নিজের মনে আর আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কি একটা ভাবলেন, তারপর বললেন, "ভাবছিলাম বলবনা, কিন্তু তুমি আর কোন উপায় রাখলেনা"।
আমি জিজ্ঞাসা চিহ্নের মোট মুখ করে তাকিয়ে রইলাম।
-আমিও প্রেম করেছিলাম এককালে, আর জমেওছিল খুব।- বলে যেন নিজের মনেই গোঁফের ফাঁকে একটু স্মৃতি বিলাসিতা করে নিলেন।
আমি বললাম, "আজ্ঞে নিঃসন্দেহে সে প্রেম জমাটি কেন জমাটির বাপ্-ঠাকুদ্দা ছিল, কিন্তু আপনি কে যদি একবার দয়া করে...
-অঃ, বলিনি বুঝি! আমি হলাম দিপুর বাপ।
-দিপুটা??
-তা বাপু তোকে দেখে মনে হল...
আমি মনে মনে বললাম- "ওরম মনে হয়"।
-দিপুর ভাল নাম হল দ্বৈপায়ন।
আমার হাঁ মুখ দেখে একটু বিরক্ত হলেন।
-ওরে ওই তোদের মহাকাব্য অচেনা, মহাভারত পুরুর তস্য নাতি পুতিদের মারামারি নিয়ে লেখা...
কি বলে কিরে বুড়োটা, ব্যাসদেবের বাপ্ মানে পরা..
-না না, এখন জ্যোতিষ শিখতে এলে আমি শেখাবো না।
পায়ে পরে গেলাম, বললাম- "দাদুগো গোটা কোটি প্রশ্ন আছে আর জ্বালাবোনা"।
-আজ ছাড়, আজ মুড্ নেই।
-আচ্ছা।
-কিন্তু আমার কথাটার যে উত্তর করলিনা?
একবার দাদু বলে ডেকে ফেলে সাহস হয়ে গেছিল, তারপর উনিও বেশ তুই টুই করে বেশ একটা ইয়ে ভাব চলে এসেছিল, বললাম, "তুমি আবার প্রেম করলে কোথায়? একটা বর দিয়ে, কুজ্ঝটিকা তৈরী করে তারপর টিক টিক..."
একটা বিরাশি শিক্কার চর খেয়ে দেখলাম বাঁ হাতের তালুতে একটা রক্তমাখা মশা। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, তখনও ন্যাকামি চলছে। বাড়ি ফিরে আসতে, মা জিজ্ঞাসা করল, "মারামারি করে এলি নাকি গালে ৫ আঙুলের দাগ?"
আমি তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে গেলাম।

পুনঃ ফেব্রয়ারি মাস এলে আমার জ্যোতিষ না শিখতে পারার আফসোশটা এমন করে ভেংচি কাটে কি বলব!

কুলের আচার ও পুরাতনী চিঠি

 মনে করুন, এভাবেই সময় চলছে... তাতে তো আর জীবন কাকু থেমে থাকবে না। এগিয়েই যাবে। মনে করুন এরকম ভাবেই ২০২৫ এর বসন্ত এসে গেছে, এভাবেই ঘরে বসে কা...