Friday, March 17, 2017

হল্লুমান

লীলা মজুমদার 'লঙ্কাদহন পালা' তে এই নামেই সম্বোধন করিয়েছিলেন পবনপুত্রকে।
উনি বীর, উনি ভদ্র (বানর সুলভ নন), উনি সাত্তিক, নিরহঙ্কারী এবং দেখা যাচ্ছে যে যুদ্ধটা স্রেফ একা দিন ৩/৪ এ নামিয়ে দিতে পারতেন, রামের জন্য ১৪দিন ধরে বোরডাম সহ্য করলেন। মাঝখানে একটু 'লু ব্রেক' এর মত গন্ধমাদন আনতে গেছিলেন এই যা।
আমাদের ওয়ার্ক এডুকেশন- ফিজিকাল এডুকেশন এর স্যার একটা গল্প করতেন (যখন যখন ওনার সাবধান-বিশ্রাম এর প্যানপ্যানানি ভাল লাগতনা)। লঙ্কা টঙ্কার যুদ্ধ মিটে গেছে, হনূমান কিষ্কিন্ধায় গেছেন, ওনার মায়ের সাথে একবার দেখা করতে। মা কে রামের বীরত্বের অনেক গল্প বলছেন, কিভাবে তিনি রাবনের মত বীরকে মারলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। হনুমানের মাতৃদেবী পুজো-আচ্চা জাতীয় কিছু একটা করছিলেন আর গপ্পো শুনছিলেন, তো হাতের কাজটা সেরে নিয়ে বললেন, "তুই একটা আস্ত মুর্খ!" 
হনুমান তো হাঁ! একটা ইয়াব্বড় সাগর লাফালুম, এমনি ঢাউস একটা পর্বত বগলে করে নিয়ে এলুম, রামকে কাঁধে চড়িয়ে যুদ্ধু করালুম আর বলে কিনা আমি মুর্খ! 
তা অঞ্জনা (স্যার নাম বলেননি কোনদিন) দেবী বললেন, "হ্যাঁ, ভেবে দেখ তুই অতবড় পাহাড়টাকে না এনে টুকুস করে লঙ্কাটাকে এনে রামের দোরগোড়ায় রাখতে পারতি, বেকার এত খাটনি হতনা।"
আজ কি একটা কথা হতে হতে পুরাণের কথায় চলে গেছিলাম সেখান থেকে কথা এল সমস্ত পুরাণের বেস লাইন সেম, শুধু একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গপ্পো বলা হয়েছে, মায় চরিত্র গুলোও এক রকম। চীনা মিথোলজিতে 'মাঙ্কি কিং' বলে একটি চরিত্র আছে যিনি দুর্বিনীত ছিলেন (হনুমান ও ছোটবেলায় ছিলেন), দেবতারা তাকে বর দিয়ে রেখেছিলেন যে এই মাঙ্কি কিং মরবেওনা আর কেউ তার লোম ও ছিঁড়তে (এখানে কথাটা উপযুক্তার্থে ব্যবহৃত) পারবেনা। হনুমানেরও এরকম বর ছিল। এনাকেও মাঝে মধ্যে মনে করিয়ে দিতে হত কি ভীষণ ক্ষমতা এনার, হনুমানকেও দিতে হয়েছিল সাগর পার হবার সময়। মোদ্দা কথা হল হয় বাল্মিকী নয় চীনা ম্যান কেউ একজন ঝেঁপেছে আর নয়ত সে সময় কপিরাইট নিয়ে বাওয়াল হত না। 
একটু হেজিয়ে নিলাম, আর একটু। আসল কথা হল এই কথা বার্তা থেকে আমার মনে হল বাল্মিকী হনুমানের মত লোককে ঠিক স্পেস দেয়নি। ভারতীয় সাহিত্যের এই এক দোষ, বুদ্ধির গুন গাইতে বেশি ভালবাসে, গায়ে শক্তি থাকাটা যেন শুধুই দু-ফোটার অতিরিক্ত পোলিও খাবার ফল। দেখুন রাম, অর্জুন এদের নিয়ে কি আদিখ্যেতা! এমন যে যারা একটু বলশালী বা স্বাস্থ্যবান হন তারা যেন মাথামোটা হবেনই, এবং তারা প্রেম ট্রেমও করতে পারবেন না। বলরাম সারা জীবন মদ খেয়ে কাটালেন কেন? কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় তীর্থে চলে গেলেন কেন? ব্যাসদেব চোখের সামনে কৃষ্ণ কে দিয়ে গুচ্ছ প্রেম করালেন আর ওনাকে? এদিকে অ্যাকিলিস কে দেখুন (ট্রয় সিনিমার ইন্ট্রোডাকশন সিনটার কথা মনে করুন)।
মানে এই মেগা সিরিয়াল ধারা আবহমান কাল ধরে চলে আসছে, নইলে কেউ একজন লিখতে পারত হনূমান বা ভীম কে নিয়ে কিছু একটা, এক রাজশেখর বসু ছাড়া আর কেউ হাতই দিলেন না। অবিচার। 
তা যাক কি আর করা! আমি উপেন্দ্রকিশোর এ আসি। ইনি ছেলেদের রামায়ণ, মহাভারত লিখেছিলেন (আমি দেখেছি এই নামকরণে ভুল করার ফলে মেয়েরা বিশেষ করে এই বই গুলো বোধহয় পড়েইনি)। ওখানে রামায়নের একটা জায়গায় রাবণ আর হনুমানের একটা মারামারির জায়গা ছিল। উফ! কি ভীষণ কম মারামারি লিখে কি এপিক মারামারির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন কি বলব। গল্পটা এরকম, রাবন তো সেজেগুজে এসেছেন আজ রাম-লক্ষনকে কেলিয়ে লাট করবেন বলে। এসেই শক্তিশেল ছুড়ে দিলেন লক্ষণকে আধমরা করে। এইবার হনুমান ক্ষেপে গেলেন, গিয়ে এক লাফে রথে চড়ে রাবণের বুকে এক কিল। রাবণ মিনিট পাঁচেক অজ্ঞান। হনূমান এতটা ভাবতে পারেননি, দশটা মাথা, কুড়িটা হাত এক কিলেই কেলিয়ে যাবেন এটা দেখে ভেবলে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাবণ উঠেই হনুমানকে এক থাবড়া। এরপর আর মারামারির কথা লেখেননি। :( বাল্মিকী তো ওপথই মারাননি। আসলে গপ্পোটা এখানেই, রাবণকে মারার টেন্ডারটি রামের ছিল তাই কবি আর চাপ নেননি। কিন্তু ঐ প্রথমে লিখেছি, হনুমান লড়লে ৩থেকে ৪দিন লড়াই হত। রাবন যতবড় বীরই হোন হনুমান তো মরত না আর ঐ রেটে লাফালাফি করলে রাবন জাস্ট হাঁপিয়ে সীতাকে ছেড়ে দিত। একটাই প্রবলেম হত, মধু কবির অত ভাল কাব্যটা লেখা হতনা এই যা!

Wednesday, January 27, 2016

রামে ৩ বা এমনি আরো একটা

 astrology জিনিসটা সরেস বটে তবে বটের আঁঠার চেয়েও চটচটে। এমনি নয় যে হাল্কার উপর ছেঁকে নিয়ে গ্লাসে ঢেলে দিয়ে দিলুম আর আপনি ঢোক্কৎ করে মেরে গোঁপ পুছে আঃ আওয়াজ করে তৃপ্তি পেলেন! আমি বুঝলেও আপনাকে বোঝাবার মত করে বলতে আমার ইয়ে ফেটে যাবার অবস্থা। আপনি বলবেন, 'তা বাপু কে বোঝাতে বলেছে তোমাকে'? কেউ না।  মা কালীর দিব্বি করে বলছি আমি কাউকে বোঝাতে চাইনা, কেউ বুঝুক সেটাও আমি চাইনা আরও একটা গুহ্য কথা হল আমি দেখেছি এসব সব্বাইকার বোঝার মত ব্যাপারও না। একটু উন্নাসিক লাগল? তা লাগলে আর কি করব বলুন, এটা হক কথা।
তবে এখানে একটা paradox আছে। আমি স্বার্থপর হলেও পরস্বার্থে একটু স্বার্থত্যাগ করতে পারি, একজন হলেও তো হল, ভাল যা তার একটুকুও ভাল। তবে কিনা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের মত অবস্থা আমার, চিনি ছাড়ার বিধান দিতে গেলে আগে নিজেকে তো ছাড়তে হবে। আম্মো শিখছি। সমোসকিত টা জানিনা বলে একটু লেবড়ে যাচ্ছি মাঝে মধ্যে। ইংরিজিতে যা বলছে সেটা যে তাই, এটা মাঝে মাঝে বুঝতে মেহন্নত করতে হচ্ছে।
তা যাকগে যাক, আজ পরাশর মুনিকে বগলের ধারে নিয়ে বসিনি, তাই যা যেমন ভাবে মনে আসে বলব। শুরুতেই বলেছিলাম astrology খুব সরেস, অনেকটা beer এর মত। ব্যাখ্যান করি, beer কে অনেকে মদ বলে বটে, তবে মদস্বরুপ কোন জটিলতা উহার নাই, তদুপরি ঝঞ্ঝাট অনেক কম শুধু শুধুই বেশ খাসা! তবু একপ্রকার নেশা হয়। beer এর নেশাটা বেশ মজার, নেশা হয়ে থাকা অবস্থায় বেশ টলমল করে, but once you pee নো নেশা নট কিচ্ছু। এ জ্যোতিষের ও এমনধারা ব্যাপার আছে, উদাহরণ দিচ্ছি, একাদশ ভাব বা রাশি চক্রের এগারো নম্বর ঘর থেকে লাভ, যানবাহনাদি, বন্ধু ও পরিচিতি মহল (friend circle) এবং পার্থিব ভোগ্য বস্তুর বিচার করা হয় এবং এইখানে কোন শুভ গ্রহ বসলে উক্ত বিষয় গুলোর ক্ষেত্রে ভাল ফল দেয়। আবার এটাও বলে একাদশ স্থানে সব গ্রহই নাকি ভাল ফল দেয় কিন্তু চর রাশি(movable sign) যদি লগ্ন হয় তাহলে ১১শ স্থানটি বাধক হিসাবে গন্য হয়। সুখের কথা না দুঃখের কথা জানিনা তবু এটা নাকি শুধু শারিরীক কিছু বাধা তৈরী করে, আর কিছু নয়। প্যাঁচালো হল কিনা ব্যাপারটা! সাধারণ সূত্র আর বিশেষ সূত্র যদি এত বিপরীত ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তবে তো চিন্তার কথা!
আরো আছে, শুক্র গ্রহ এতদিন জানতাম খুব ভাল, নীচস্থ না হলে ভাল ভাল কাজই করে থাকেন, তা জানলুম কর্কট লগ্নের জন্য নাকি তেমন সুবিধার নয় , কেমন লাগে বলুন। তারপর কে কার বন্ধু, কে কার শত্রু এটাও এক ঝামেলার হিসাব।  এই যেমন ধরুন রবি, মঙ্গল কে বন্ধু ভাবছে অথচ মঙ্গল রবি কে শত্রু ভাবছে, ভাবুন কি ফক্কিকারি কারবার! তা যাক কে কাকে কিভাবে দেখে একটু দেখে নিন।
ছবিটা ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। আজ এটুকুঈ থাকুক, কাল আবার পরাশর বাবুর স্মরনাপন্ন হব। ৮০।
ওঁ নমঃ শিবায়।
ওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়।

Thursday, January 21, 2016

:)

আজ হঠাৎ ইচ্ছা হল তাই তুললাম ভিডিও টা। আমার বর্ত্মানে ফোনের ক্যামেরা টা বাজে, তাই quality maintain হলনা।
বলবার  কথা হল, এখন এই কিছুক্ষনাগে অর একটা ছবি তুলতে চাইলাম- প্রচন্ড নারাজ এবং আমাকে বকে, ইচ্ছা করে পোজ নষ্ট করে ছবি তুলতে দিলনা। শেষে যেই বললাম, 'আচ্ছা আর তুলবনা', অমনি আমাকে আলতো করে ঢুঁ মেরে ঘরে ঢুকে শুয়ে পড়ল।
একটু আগে খেয়েছে। বোধহয় নিজের ছবি সম্পর্কে সচেতন! যাতে মোটা না লাগে।

Tuesday, January 19, 2016

না লেখার কারন

জীবন টা খুব জটিল মশাই, ইচ্ছা আর চিন্তার মধ্যে বিস্তর ফারাক, মাঝখান থেকে আকুতি গুলো চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চলেছে। ইদানীং কালে আমায় অনেক সাংসারিক কাজ করতে হচ্ছে,যা কিনা কোনকালে করব বলে ভাবিই নি। অবশ্য আমার প্ল্যান অনুযায়ী আমার জীবনে কিছুই হয়নি এই ৩০ বছর অবধি। যাক পুরোনো কথা বললে নিজেকে বড্ড অকর্মন্য মনে হয়, বাদ দিলুম। অনেকে বলে আমার দোষ আছে, আমি বলব- যে ভাবনা চিন্তা বা কাজ গুলোর জন্য সাধারণ মধ্যবিত্ত গন্ডির মধ্যে আমি দোষী সাব্যস্ত হলুম সেটার উৎস ও তো ঐ উপরের ভদ্রলোকটির! আমি বাসুখুড়ো বলে ডাকি, আপনারা যে যার মত বুঝে নিন।
ভনিতাটা ঠিক জমল না! প্রথমে অভিনয় করব ভেবেছিলাম, মানিক বাবু এবং আরো অনেকে মাথাটা বিগড়ে দিলেন। লেখাটা একপ্রকার স্বাভাবিক ভাবে আসে (সাহিত্য গুণের কথা বলছিনা), সেগুলো নিয়ে এগোলাম কিন্তু বুঝলাম লক্ষ্মী দেবী সাথ দিলেন না, দোরে দোরে ঘুরে বাংলায় কিছু হবেনা। পিছনে নিজের কয়েকটা ভুল ছিল, তবে সেটা একান্তই উপযুক্ত পরামর্শের অভাবে। একটা সময় গিয়ে বুঝলাম নিজেকেই করে নিতে হবে, আরো একটা জিনিস বুঝলাম নেহাত ই লিখব, একটা সিনেমা বানাবো লোকে বেশ না বুঝে 'আপনি' 'আজ্ঞে' করে বলবে আমি তো বাংলা সিনেমা দেখিনা তবে আপনারটা দেখি, সত্যি বলতে কি এসব চারপাশে  এত ন্যাকামো দেখছি রোজ ভাল্লাগছে না। করছি অনেক কিছুই কতগুলো লক্ষ্যে পৌঁছবার জন্য, এখন বলতে গেলে কিরকম ব্যাখ্যান করছি মনে হবে, তাছাড়া এখনো বড়লোক হইনি আর SRK তো বলেছেন, 'বড়লোক হইবার পূর্বে দার্শনিক মন্তব্য বা কথা বলিতে নাই' (ঠিক এরকমটাই বলেন নি, তবে ভাবার্থটা এরকমই)।
হ্যাঁ লেখাটা দেরী হয়ে যাচ্ছে অনেক গুলো কারণে ১মত, জ্যোতিষে পড়তে হয় অনেক, বুঝতে হয়, আমি পন্ডিত নই, কিছুটা নিজের স্বার্থেই লিখছিলাম যাতে শিক্ষাটা রপ্ত হয়। এছাড়া আরো পড়াশুনা আছে, এই তো রামকৃষ্ণ বাবুর(ফেসবুকের বন্ধু, আমি জ্যাঠু বলি, আফসোস এখনো সামনা সামনি আলাপ টা হয়নি) লেখা পড়ে পড়ে মুজতবা আলির লেখা পড়তে শুরু করলাম (এর আগে পড়িনি কেন জানিনা, মুর্খামিই হবে) টানা পড়তে পারছিনা। অনেক গুলো ভাবনা জমে আছে, কাজ থেমে আছে  করা হচ্ছে না। মা থেকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, আমি বেসামাল হয়ে পড়ছি।
যাক আবার লিখব, লিখতেই হবে। আশা করি বসু খুড়োর দয়ায় সব ঠিক হয়ে যাবে। হ্যাঁ সিনেমাও বানাবো।

Thursday, December 3, 2015

রাশি কথা...cont.

আমি টিভি সিরিয়ালে যৎকিঞ্চিত লেখালিখি করে থাকি। রাশি নামে একটি জনপ্রিয় সিরিয়াল আছে (এখনও চলছে কিনা জানিনা) একবার সেটা লেখার কথা হয়েছিল, দুর্ভাগ্যক্রমে সুযোগ টা আর হয়নি। না এখানে আমি ওভাবে টি.আর.পি বাড়াবার চেষ্টা করছিনা।
রাশি চক্র আকাশে অবস্থিত আছে, থাক। ঋষি মুনিরা কল্পনা করেছেন আকাশে কালপুরুষের অঙ্গবিভাগে এই রাশিগুলির একটা অবস্থান আছে;
  1. মেষ- মাথা
  2. বৃষ- মুখ 
  3. মিথুন- হাত
  4. কর্কট- হৃদয়/মন
  5. সিংহ- পেট
  6. কন্যা- নিতম্ব
  7. তুলা- নাভির নীচের অংশ/ তলপেট
  8.  বৃশ্চিক- গুপ্ত অঙ্গ (private parts)
  9. ধনু- থাই/ জঙ্ঘা
  10. মকর- হাঁটু
  11. কুম্ভ- গোড়ালি
  12. মীন- পায়ের পাতা (*কিছু মতে মাথার পিছনের অংশ। এটা আমার নতুন জানা, পরাশর মুনি এটা সরাসরি বলেন নি)
এই যে কালপুরুষের অঙ্গ বিভাগ এর সাথে জন্ম কুন্ডলির প্রতিটা ঘরের বা ভাবের যে কারকতা সেটারও একটা যোগাযোগ আছে। ভাব কারকতা প্রসঙ্গে আসলে ব্যাখ্যা করব। এখন লিখলে গুলিয়ে যাবে, আর অকারণে বড় হয়ে যাবে।
১২টি রাশির আলাদা আলাদা ধরন, আলাদা তত্ত্ব, আলাদা চারিত্রিক কারকতা এবং ধাতু কারকতা আছে। এছাড়াও রাশির রঙ, বর্ণ (cast) এসব ও আছে।
প্রথমত ১২টা রাশিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে,- ১)চর (movable) রাশি, ২) স্থির (fixed) রাশি , ৩) যুগ্ম (dual) রাশি।
  1. চর রাশি- মেষ, কর্কট, তুলা, মকর।
  2. স্থির রাশি- বৃষ, সিংহ, বৃশ্চিক, কুম্ভ।
  3. যুগ্ম রাশি- মিথুন, কন্যা, ধনু, মীন। *
আবার মেষ, মিথুন, সিংহ, তুলা, ধনু, কুম্ভ হল পুরুষ রাশি এবং নিষ্ঠুর রাশি,  আর বৃষ, কর্কট, কন্যা, বৃশ্চিক, মকর, মীন হল স্ত্রী রাশি এবং সৌম্য (beneficial) রাশি। [১,৩,৫,৭,৯,১১ হল ক্রুর রাশি এবং পুরুষ আর ২,৪,৬,৮,১০,১২ হল স্ত্রী এবং সৌম্য রাশি]
রাশিরা চারটি তত্ত্ব এবং তিনটি ধাতু তে বিভক্ত। চারটি তত্ত্ব(element) হল, অগ্নি, পৃথ্বী (মাটি), জল এবং বায়ু। আর তিনটি ধাতু হল, বাত(বায়ু), পিত্ত (তাপ), কফ (শ্লেষ্মা/জল)।
প্রত্যেক রাশির একজন করে অধিপতি গ্রহ আছে।
  1. মেষ রাশি- চতুষ্পদ। রক্ত লাল রঙ, বিশাল স্থূল (bulky) শরীর, রাত্রিকালে শক্তি বাড়ে, পূর্বদিকে অবস্থান, রজোঃ গুন সম্পন্ন, ক্ষত্রিয় বর্ণ,  পিছন দিক করে উদিত(rise) হয়, পাহাড়ে চড়ে বেড়ায়, পিত্ত প্রধান ও অগ্নি মেষ রাশির তত্ত্ব এবং এর অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। 
  2. বৃষ- বৃষ রাশির রঙ সাদা, শুক্র এর অধিপতি গ্রহ। বৃষ ও চতুষ্পদ, দীর্ঘ শরীর এবং রাত্রিকালে শক্তি বাড়ে। এর অবস্থান দক্ষিন দিকে, এর প্রতীক গ্রাম, বর্ণ বৈশ্য, রজোঃ গুন সম্পন্ন, বাত প্রধান শরীর, এর তত্ত্ব পৃথ্বী এবং বৃষ রাশি পিছন দিক করে উদিত হয়। 
  3. মিথুন- মিথুন রাশি সোজা উদিত হয়, পশ্চিম দিক এবং গ্রামে অবস্থান করে(প্রতীকি), মিথুন রাশির প্রতীক দুটি নারী পুরুষ মৈথুনরত, পরাশরে বলা আছে এদের হাতে একটি দন্ড আর একটি বাদ্যযন্ত্র ধরা। বেহালা বা ভায়োলিন হবে হয়ত। মিথুন রাশি দ্বিপদ, এর তত্ত্ব বায়ু, রঙ সবুজ, নিশাচর, সম শরীর, শুদ্রবর্ণ, এর অধিপতি গ্রহ বুধ।
  4. কর্কট- ব্রাহ্মণ বর্ণ,  মেটে লাল রঙ, বনচারী (জঙ্গলে থাকে), রাত্রে বলশালী (strong), ভারী শরীর, বহুপদ, সাত্ত্বিক গুন সম্পন্ন, এর তত্ত্ব জল, পিছন দিক করে উদিত হয় এবং চন্দ্র কর্কট রাশির অধিপতি গ্রহ। 
  5. সিংহ- ব্রাহ্মণ বর্ণ, অধিপতি গ্রহ সূর্য্য, চতুষ্পদ, পূর্ব দিকে অবস্থান, ক্ষত্রিয়,দিনে বলশালী, সোজা উদিত হয়, বনচারী, হলুদ রঙ, তত্ত্ব অগ্নি এবং ভারী শরীর।
  6. কন্যা- পাহাড়ে বসবাস, দিনে বলশালী, সোজা উদিত হয়, মধ্যম শরীর, দ্বিপদ, দক্ষিনদিকে অবস্থান, প্রতীক একটি মেয়ে হাতে শস্য এবং আগুন, বৈশ্য বর্ণ, গায়ে চিত্রিত রঙ, তত্ত্ব বায়ু, তমোগুনী, স্বভাব শিশুসুলভ এবং বুধ এর অধিপতি গ্রহ।
  7. তুলা- সোজা উদিত হয়, দিনে বলশালী, কালো রঙ, রজোগুণী, পশ্চিম দিকে অবস্থান, পৃথিবীতে ঘুড়ে বেড়ায়, দ্বিপদ, হিংস্র, শুদ্র বর্ণ, মধ্যম আকৃতি (size), তুলা তত্ত্ব বায়ু এবং এই রাশির অধিপতি শুক্র গ্রহ।
  8. বৃশ্চিক- পাতলা শরীর, বহুপদ, ব্রাহ্মণ বর্ণ, উত্তর দিকে ও গর্তে বাস করে, লালচে বাদামী রঙ, জলে ও স্থলে উভচর, লোমশ দেহ, তীক্ষ্ণ হুল, এর তত্ত্ব জল এবং এই রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। 
  9. ধনু- পিছন দিক করে উদিত হয়, বৃহস্পতি এর অধিপতি গ্রহ, সত্ত্বগুণী। হলুদ রঙ এবং রাতে বলশালী। তত্ত্ব অগ্নি, ক্ষত্রিয় বর্ণ, ১৫ ডিগ্রী অবধি দ্বিপদ তারপর চতুষ্পদ। সম শরীর এবং ধনুক ও বান হাতে, পূর্ব দিকে থাকে এবং পৃথিবীতে ঘুড়ে বেড়ায়। স্বয়ং ব্রহ্মা ধনু রাশির তেজ তৈরী করেছেন।
  10. মকর- শনি এর অধিপতি গ্রহ, তত্ত্ব মাটি, তমোগুণী। দক্ষিন্দিকে থাকে এবং রাতে বলশালী।পিছন দিক করে উদিত হয়, বিশাল শরীর চিত্র বিচিত্র রঙ, বনে এবং স্থলে (land) চড়ে বেড়ায়। অর্ধেক শরীর চতুষ্পদ আর বাকী অর্ধেক পা হীন (less) জলের নীচে ভেসে বেড়ায়। মকর রাশির প্রতীক (বৈদিক মতে) মুখটা ছাগলের মত আর দেহটা তিমি মাছের।
  11. কুম্ভ- কুম্ভ রাশির প্রতীক একটি লোক কাঁধে একটা জলের ঘড়া (pot) ধরে আছে। বাদামী রঙ, মধ্যম আকৃতি, দ্বিপদ। দিনে বলশালী, গভীর জলে বাস করে এবং এর তত্ত্ব বায়ু। সোজা ভাবে উদিত হয়, তমোগুণী, শুদ্রবর্ণ। পশ্চিম দিকে অবস্থান এবং এর অধিপতি গ্রহ শনি।
  12. মীন- প্রতীক দুটি মাছ বিপরীত মুখী। দিনে বলশালী, তত্ত্ব জল, সত্ত্বগুণী এবং স্বাস্থ্যবান। হলে বাস করে এবং ব্রাহ্মণ বর্ণ। পা হীন, মধ্যম আকৃতি, উত্তর দিকে অবস্থান, সোজা এবং পিছন দুভাবেই উদিত হয়। মীন রাশির অধিপতি গ্রহ বৃহস্পতি।
শেষ হল। এর পরের লেখাটা আমার নিজের মত লিখব।
*লিখতে লিখতে অনেক গুলো বিষয়ে নিজের টিপ্পনি দিতে ইচ্ছা হচ্ছিল, পরের লেখায় লিখব। 
ওঁ নমঃ শিবায়।
ওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়।

Monday, November 16, 2015

রামে দুই

সৃষ্টির শুরুতে কি ছিল তা নিয়ে রামায়ণ মহাভারতে অতটা না বললেও বেদ, পুরাণে বলেছে। আমার পুরাণ গুলো সরাসরি পড়া হয়ে ওঠেনি কারণ কিনতে পারিনি এখনও। এখানে একটু না বলে পারছিনা, আমায় icici bank একটা free credit card দেবে বলছে (আনন্দ পেয়ে নিশ্চয়ই নয়), যে পরিমাণ টাকা credit করা যাবে তা তো মনে হয় বই কিনেই খরচ হয়ে যাবে। এদিকে 'বেলাশেষে' দেখে আমার আবার ইচ্ছা করছে publication business করার, করব। এখানে বলে রাখি কিছু লোক কে আমি কখনও না কখনও কোনও না কোনও ভাবে কুপিত করেছি কাজের মাধ্যমে কাজটা না করে। আমি সত্যিই নিজের ব্যবহারে দুঃখিত। কিন্তু আমি দেখেছি তারা চেয়ে না চেয়ে, ভালবেসে বা না বেসে আমার সুযোগ নিয়েছেন, বাংলায় বললে exploit করেছেন। তাই as a professional আমার কোন দুঃখ নেই। তা যাকগে বললাম কারণ কিছু লোক লেখা পড়ে আবার পিনিক কাটতে যায়।
এত কথা বললাম, শুরুতে মহাতত্ত্ব নামে একটা বিষয় নিয়ে লিখব বলে রাশি নক্ষত্রে ঢুকে হালকা করে পাশ কাটিয়ে গেছি, তবে কথা দিচ্ছি নিশ্চয়ই লিখব, আসতে আসতে সে বিষয়টা লেখবার মত সহজ করে এনেছি। :)
ছোটবেলায় রচনা লেখবার সময় ও জানেন আমি পছন্দের বিষয় পেয়ে গেলে সূচনাতে হেজিয়ে ফেলতাম। রাশি নক্ষত্রের পর এবার আসব গ্রহতে। গ্রহ আসলে সাতটি- রবি, সোম(চন্দ্র), মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি। এছাড়া আরো দুটি গ্রহের কথা পরাশর বলেছেন, রাহু ও কেতু। বিজ্ঞানীরা রাহু কেতু বলতে বুঝিয়েছেন চাঁদ ও সূর্যের সংযোগ স্থলে দক্ষিনে ও উত্তরে যে দুটি বিন্দু তৈরী উৎপন্ন হচ্ছে সে দুটিই যথাক্রমে কেতু এবং রাহু। প্রকৃতপক্ষে রাহু কেত গ্রহ নয়, কিন্তু মুনি ঋষিরা গ্রহ হিসাবেই ধার্য্য করেছেন এবং সেরকম ই ফল ব্যাখ্যা করেছেন। এবার এই সাতটি গ্রহের প্রত্যেকের একজন আরাধ্য দেবতা বা দেবী আছেন, তারা হলেন;
  1. রবি (সূর্য্য)- অগ্নি (বৈদিক দেবতা, আগুনের দেবতা)
  2. সোম (চন্দ্র)- বরুন (ঐ, সমুদ্র বা জলের দেবতা)
  3. মঙ্গল- কার্তিকেয় (ঐ, শিবের ঔরস জাত সন্তান, দেবতাদের সেনাপতি)
  4. বুধ- বিষ্ণু (ঐ, ত্রিদেব এর অন্যতম, পালনকর্তা, স্বয়ং নারায়ণ)
  5. বৃহস্পতি- ইন্দ্র (ঐ, স্বর্গের রাজা। ইন্দ্র- একটি পদ = designation,)
  6. শুক্র- শচী (ঐ, ইন্দ্রের স্ত্রী ইন্দ্রানী। এটিও পদ, শচী বোধহয় নাম।)
  7. শনি- ব্রহ্মা (ঐ, ত্রিদেবের অন্যতম, সৃষ্টিকর্তা)
এবার, ১২টি রাশির প্রত্যেকটির আবার একটি করে অধিপতি গ্রহ আছে,
  1. মেষ- মঙ্গল
  2. বৃষ- শুক্র
  3. মিথুন- বুধ
  4. কর্কট- চন্দ্র
  5. সিংহ- সূর্য্য
  6. কন্যা- বুধ
  7. তুলা-শুক্র
  8. বৃশ্চিক- মঙ্গল
  9. ধনু- বৃহস্পতি
  10. মকর- শনি
  11. কুম্ভ- শনি
  12. মীন- বৃহস্পতি।
আজ এপর্যন্তই থাক। পরের পর্বে রাশির ব্যাখ্যায় আসব।নতুন একটা লেখাও লিখব, যেটা লিখব বলে বহুদিন ভাবছি। আসি আজ, ভাল থাকবেন।
ওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়।
ওঁ নমঃ শিবায়।

Friday, November 6, 2015

রামে রাম (শুরু করলাম)।

প্রথমে ছোট্ট করে একটু সূত্রপাত করে নি। জ্যোতিষের শুরুতে নাম, ঠিকানা, দেব বন্দনা ইত্যাদি হবার পর যা থাকে তা হল গ্রহ, নক্ষত্র, রাশি, লগ্ন- প্রাথমিক স্তরে এই। আমি ব্যাখ্যামূলক জায়গাতে যাব না বিদগ্ধ পন্ডিতেরা সেসব করেছেন, আমি শুধু মূল বিষয়টা বলব। প্রাচীন ঋষি মুনিরা দীর্ঘকাল পর্যবেক্ষনেরপর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আকাশে একটি কাল্পনিক রাশিচক্র আছে, বা কালপুরুষের কাল্পনিক অবয়বের মধ্যে সেই রাশি বিভাগ দেখা যায়। এই রাশি গুলো হল-
  1. মেষ
  2. বৃষ
  3. মিথুন 
  4. কর্কট
  5. সিংহ
  6. কন্যা
  7. তুলা
  8. বৃশ্চিক
  9. ধনু
  10. মকর
  11. কুম্ভ
  12. মীন
এই রাশি চক্র কতগুলি নক্ষত্রের সমষ্টিতে তৈরী হয়েছে, এই নক্ষত্র গুলো সূর্য্যের দু পাশে অবস্থিত ২৭টি নক্ষত্রের সন্নিবেশনের ফলে সৃষ্ট হয়েছে। নক্ষত্র গুলি হল;
  1. অশ্বিনী
  2. ভরণী
  3. কৃত্তিকা
  4. রোহিনী
  5. মৃগশিরা
  6. আদ্রা
  7. পুনর্বসু
  8. পুষ্যামি
  9. অশ্লেষা
  10. মঘা
  11. পূর্ব ফাল্গুনী
  12. উত্তর ফাল্গুনী
  13. হস্তা
  14. চিত্রা
  15. স্বাতী
  16. বিশাখা
  17. অনুরাধা
  18. জ্যেষ্ঠা
  19. মূলা
  20. পূর্বাষাঢ়া
  21. উত্তরাষাঢ়া
  22. শ্রবণা
  23. ধনিষ্ঠা
  24. শতভিষা
  25. পূর্বভাদ্রপদ
  26. উত্তরভাদ্রপদ
  27. রেবতী 
এই রাশি চক্রকে একটা বৃত্তের মত কল্পনা করা হয়েছে অর্থাৎ ৩৬০ডিগ্রী, এই বৃত্তটা সমান ১২টা ভাগে ভাগ করা মানে প্রতেকটা রাশির মাপ ৩০ডিগ্রী আর প্রতিটা রাশিতে সোয়া দু খানা করে নক্ষত্র পড়ছে, অর্থাৎ প্রতিটা নক্ষত্রের মান ১৩ডিগ্রী ২০মিনিট করে (বাংলায় ১৩অংশ ২০ কলা*)।
আজ এই অবধি রাখছি। একটা গল্প বলতে চাইছি আটকে আটকে যাচ্ছে... বলব পরদিন। ...........................(চলবে)।


*এই সব অংশ, কলা, বিকলা এগুলো জ্যোতিষ বই গুলোতে খুব আছে সেগুলো বাংলা বই গুলোতে একটুও সংস্কার হয়নি। আমিও রাখলাম যদি কেউ আপত্তি তোলে বলা তো যায়না। দেখা যাক।

কুলের আচার ও পুরাতনী চিঠি

 মনে করুন, এভাবেই সময় চলছে... তাতে তো আর জীবন কাকু থেমে থাকবে না। এগিয়েই যাবে। মনে করুন এরকম ভাবেই ২০২৫ এর বসন্ত এসে গেছে, এভাবেই ঘরে বসে কা...